সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মানুষকে কতটা বিশ্বাস করবেন?

মানুষকে কতটা বিশ্বাস করবেন?
একটি বিশ্বাসের গল্প...

একবার এক লোকের গাড়ি চুরি হয়ে গেলো। কয়েকদিন বেশ খোঁজাখুঁজির পরেও খুঁজে পেলো না। খুঁজে না পেয়ে হাল ছেড়ে দিলো। যেদিন হাল ছেড়ে দিলো, তার পরেরদিন তার বাসার নিচে গাড়িটি দেখতে পেলো। নিজের গাড়ি দেখে দৌঁড়ে তিনি গাড়ির কাছে গেলেন। গিয়ে দেখলেন গাড়ি ঠিক আছে। এবং ড্রাইভিং সিটে একটি খাম দেখতে পেলেন। খাম খুলে কতগুলো টিকেট আর চিরকুট দেখতে পেলেন। চিরকুট খুলে তিনি পড়তে শুরু করলেন।
চিরকুটে লেখা , 'আমার মা হুট করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ঝড় বৃষ্টির রাত হওয়াতে কোন গাড়ি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অসহায় হয়ে আপনার গাড়িটি আপনাকে না বলে নিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি এতো ধনী ব্যক্তি নই আপনাকে খুব দামী কোন উপহার দিবো। আমি আমার সাধ্যমতো কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনি গ্রহণ করলে আমি খুব কৃতজ্ঞ থাকবো এবং খুশি হবো। আপনার পরিবারে মোট ১০জন সদস্য আছে। আমি আপনাদের সকলের জন্য ১০টি সিনেমার টিকেট কেটেছি। টিকেটগুলো আগামীকালের নাইট শো'য়ের। আর, সিনেমা হলের ফুড কোর্টে আপনার খাবারের ব্যবস্থাও করা আছে। বিল দেওয়া আছে। সিনেমার টিকেটগুলো সেখানে দেখালেই হবে।
আরেকটা কথা, গাড়িতে যত পেট্রোল ছিলো সব আগের মতো আছে। আপনার গাড়ির খারাপ লকও ঠিক করে দিয়েছি। ' ১৫লাখ টাকার গাড়ি খুঁজে পেয়ে লোকটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলো। পরেরদিন পরিবারের সকলকে নিয়ে লোকটি সিনেমা দেখতে গেলো। সিনেমা দেখে, খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিচে নেমে দেখে গাড়ি নেই। আবার, গাড়ি চুরি হয়ে গেছে। এইদিকে খুব রাত হয়ে গেছে। একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে তারা বাসায় ফিরলো। বাসায় ফিরে দেখে বাসার লক ভাঙ্গা। ঘরে ঢুকে দেখে বাসায় যত ক্যাশ টাকা, সোনার গহনা, দামি জিনিসপত্র ছিলো সেসবের কিচ্ছু নেই। প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেলো।
লোকটি দরজার পাশে আরেকটি খাম দেখতে পেলো। সেই খাম খুলে দেখলো আরেকটি চিরকুট। চিরকুটে লেখা, 'সিনেমা কেমন লাগলো? খুব ভালো সিনেমা। আমি নিজে কয়েকদিন আগে দেখেছি। গাড়ির লকও দেখি আপনি পরিবর্তন করেন নি! চিনেন না, জানেন না এবং কখনো দেখেন নি এমন এক মানুষের কাছ থেকে চিরকুট পেয়ে বাসা খালি রেখে কেউ সিনেমা দেখতে যায় ? এতো বিশ্বাস করে আজকাল কেউ কাউকে?'
লোকটির তখন আফসোস করা ছাড়া আর কিইবা করার আছে!

আমরা আমাদের জীবনে এমন অনেক মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করি। নিজের দুর্বলতা, গোপন কথা তাদের সাথে শেয়ার করি। নিজের পুরোটাই তাদের সামনে তুলে ধরি। এবং একটা সময় ঠিক আফসোস করি। কিন্তু তখন আমাদের আর করার কিছু থাকে না। অন্যকে কখনো এতটা বিশ্বাস করা উচিত নয়, যখন তারা বিশ্বাস ভাঙ্গবে তখন যেন নিজেকে নিঃস্ব মনে না হয়। বিশ্বাস ভেঙ্গে কষ্ট দেওয়া আর বিশ্বাস ভেঙ্গে নিঃস্ব করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। এইটুকু আমাদের বুঝতে হবে। সবাইকে বিশ্বাস করবো, তবে অন্ধের মতো নয়।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Satulia Islamia Senior Madrasah (সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা) আদি ও বর্তমান

শিক্ষা প্রসারে সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে অন্যতম সেরা সিনিয়ার মাদ্রাসা। প্রথমে আমরা জেনে নেব সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। ১৯৪৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অবিভক্ত ভাঙ্গড় থানার ও অধুনা কাশিপুর থানার ভগবানপুর অঞ্চলে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সাতুলিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠালগ্নে একটি বৈঠকখানায় পড়াশোনা শুরু হয় শুরু হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এক বিশাল বিস্তৃত অট্টালিকার আকার ধারণ করেছে। সাতুলিয়া পার্শ্ববর্তী গাংআইট গ্রামে পাকাপোল জুনিয়ার হাই স্কুলে পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) এর নোয়াখালীর বাসিন্দা জালাল উদ্দিন সাহেব শিক্ষকতা করতেন। পাকাপোল জুনিয়ার হাই স্কুলের কাছে ভগবানপুর জুনিয়র হাই স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাওলানা জালাল উদ্দিন সাহেব পিঠাপুকুরের রওশান আলি সাহেব, সাতুলিয়ার মৌলভী মাওলা বক্স সাহেব, গুছুড়িয়ার লাল মিয়া সাহেব প্রমুখের নিকট এলাকার মুসলিম বসতির কথা স্মরণ করিয়ে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন এবং সকলেই তার পরামর্শ সদরে গ্রহণ করেন। বিলম্ব না করে কিছুদিনের মধ্যেই...

মৃত্যু ও বিয়েতে কি অদ্ভুত মিল

মৃত্যু ও বিয়েতে কি অদ্ভুত মিল তোমারপালকি উঠলো ,আমার খাটিয়া উঠলো। ফুল তোমার উপরও ঝরলো,ফুল আমার উপরও ঝরলো। তফাৎ শুধু এই ট্কুই ছিল। তুমি সেজে গেলে,আমাকে সাজিয়ে নিয়ে গেলো। তুমি নিজের ঘরে চললে আমিও নিজের ঘরেই চললাম। তফাৎ শুধুই এই টুকুই ছিল তুমি নিজে উঠে গেলে, আমাকে উঠিয়ে নিয়ে গেল। মাহফিল ওখানেও ছিল লোকজন এখনেও ছিল। তফাৎ এই টুকুই ছিল ওখানে সবাই হাসছিল এখানে সবাই কাদঁছে। কাজী ওখানেও ছিল মৌলভী এখানেও ছিল। দুটো আয়াত তোমার জন্যে পড়লো দুটো আয়াত আমার জন্যেও পড়লো তোমার বিয়ে পড়ালো আমার জানাজা পড়ালো  তফাৎ শুধু এই টুকুই ছিল তোমাকে করলো আপন আমাকে করলো দাফন। সংগ্রহে - মোঃ তৈয়েবুর রহমান 

আবু বকর আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নানান বিষয়ে দ্বিমত ও তার সমাধান

আবু বকর আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নানান বিষয়ে দ্বিমত করতেন, তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো, এমনকি চরম পর্যায়ের রাগারাগিও।  ব্যক্তিগত মতামতের বেলায় তারা দুজন খুব কম সময়ই একমত হতেন। তাঁদের কাছে কোনো পরামর্শ চাওয়া হলে একজন বলতেন, এই দিকে যান, তো আরেকজন বলতেন, না ঐদিকে যান।  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদর যুদ্ধের পর যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে সাহাবীদের কাছে জানতে চান।  আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মত দিলেনঃ "ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা তো আপনারই লোক, আপনারই পরিবার। তাদেরকে জীবিত রাখুন এবং সুযোগ দিন। হয়তোবা আল্লাহ তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার তাওফিক দেবেন।" উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মত দিলেনঃ "ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরাই তো আপনাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে, এরাই তো আপনাকে অবিশ্বাস করছে। (এখন তাদেরকে কিসের ক্ষমা) সুতরাং, আপনি তাদের শিরচ্ছেদ করুন।" দুজন সিনিয়র সাহাবী দুই ধরণের মত দিচ্ছেন। একজন বলছেন ক্ষমা করার কথা, তো আরেকজন বলছেন শাস্তি দেবার কথা।  কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "আল্লাহ কারো হৃদয়কে এতোটা কোমল বানি...