সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Satulia Islamia Senior Madrasah (সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা) আদি ও বর্তমান


শিক্ষা প্রসারে সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা

সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে অন্যতম সেরা সিনিয়ার মাদ্রাসা। প্রথমে আমরা জেনে নেব সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। ১৯৪৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অবিভক্ত ভাঙ্গড় থানার ও অধুনা কাশিপুর থানার ভগবানপুর অঞ্চলে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সাতুলিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠালগ্নে একটি বৈঠকখানায় পড়াশোনা শুরু হয় শুরু হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এক বিশাল বিস্তৃত অট্টালিকার আকার ধারণ করেছে। সাতুলিয়া পার্শ্ববর্তী গাংআইট গ্রামে পাকাপোল জুনিয়ার হাই স্কুলে পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) এর নোয়াখালীর বাসিন্দা জালাল উদ্দিন সাহেব শিক্ষকতা করতেন। পাকাপোল জুনিয়ার হাই স্কুলের কাছে ভগবানপুর জুনিয়র হাই স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাওলানা জালাল উদ্দিন সাহেব পিঠাপুকুরের রওশান আলি সাহেব, সাতুলিয়ার মৌলভী মাওলা বক্স সাহেব, গুছুড়িয়ার লাল মিয়া সাহেব প্রমুখের নিকট এলাকার মুসলিম বসতির কথা স্মরণ করিয়ে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন এবং সকলেই তার পরামর্শ সদরে গ্রহণ করেন। বিলম্ব না করে কিছুদিনের মধ্যেই সাতুলিয়ার মাওলা বক্স সাহেবের বৈঠকখানায় মাদ্রাসার কাজ আরম্ভ করা হয়। উক্ত বৈঠকখানায় জনাব মাওলানা আব্দুর রহমান সাহেবের শিক্ষকতায় পঠন-পাঠন শুরু হয়। প্রথমদিকে ছাত্র ছিলেন নাটাপুকুরের মাওলানা আবুল খয়ের, মোঃ আতিয়ার রহমান, মোঃ দাউদ আলী, তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ হবিবর রহমান সাতুলিয়ার মাওলানা আব্দুর রশিদ, ডাঃ আব্দুল মান্নান, মাওলানা তোমার আলী প্রমুখ। মাদ্রাসা লগ্নের শিক্ষাকতার কর্মে যারা নিয়োজিত ছিলেন তারা হলেন - মাওলানা জালাল উদ্দিন সাহেব (নোয়াখালী), মাওলানা আব্দুল বারী সাহেব (নোয়াখালী), মাওলানা আব্দুল খালেক (খুলনা), পরবর্তীতে যে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শিক্ষকতা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মাওলানা আব্দুন নূর (আসাম), জনাব আব্দুল মান্নান খান, মাওলানা আব্দুল আহাদ কাসেমী (বিহার), জনাব আহসান আলী (সাতুলিয়া), সকলেই মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পূর্বে শিক্ষকতা কর্মে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নুরুজ্জামান সাহেবের উদ্যোগে তৎকালীন রাজ্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শ্রী গোবিন্দ নস্কর মহাশয় এর একান্ত প্রচেষ্টায় মাদ্রাসাটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে। সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ২৫০০ ছাত্র ছাত্রী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। ২০০৮ সালে মাদ্রাসাটি ফাজিল (উচ্চ মাধ্যমিক) এ উন্নীত হয়। এক একর ৩০ শতক জমির উপর মাদ্রাসাটির কাঠামো দাঁড়িয়ে। বর্তমানে সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত হাই স্কুল এবং হাই ও সিনিয়র মাদ্রাসা গুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে। ব্লক, জেলা, রাজ্য স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান অধিকার করে চলেছে। বিগত কিছু বছর ধরে সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীদের আলিম ও ফাজিল পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক। প্রায় বছর একটি দুটি করে আলিম ও ফাজিল পরীক্ষায় পশ্চিম বঙ্গের সেরা ১০ জনের মধ্যে জায়গা করে নিচ্ছে। ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের মাদ্রাসা কামিল স্তরে উন্নত হয়েছে। 
মাদ্রাসার প্রাক্তন উল্লেখ যোগ্য প্রধান শিক্ষক মাওলানা জলিল সাহেবের এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের নয়নমণি শেখ গোলাম মইনুদ্দিন সাহেবের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসার সমস্ত পরিষেবা আজ উন্নত। মিনারেল ওয়াটার ব্যাবস্থা, ছাদ দেওয়া এবং মার্বেল ও টাইলস বসানো ক্যান্টিনের ব্যাবস্থা সহ প্রতি শ্রেণী কক্ষে সি সি টিভি এর ব্যাবস্থা এবং মাইক্রোফোন ও বক্সের ব্যাবস্থা আরো প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষা লাভের ব্যবস্থা এবং কম্পিউটার ও জিওগ্রাফি ল্যাব এর ব্যাবস্থা আরো আছে সুন্দর সুগঠিত লাইব্রেরী। মাদ্রাসার ছাত্রদের ও গ্রামের মানুষের নামাজের জন্য মসজিদে নামাজের সুব্যবস্থা এবং ছাত্রীদের জন্য নামাজ ঘরের ব্যাবস্থা। মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাদ্রাসার ছাত্রী নিবাস থেকে প্রায় ৫০ জন ছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। এই উত্তরণ মাদ্রাসার মুকুটে নতুন নতুন পালক সংযোজিত করছে। মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা শিক্ষা যে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে, এই মাদ্রাসা তার এক জীবন্ত ও অনন্য নজির।

                      মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ
          মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষিকাগণ এবং ছাত্রবৃন্দ
                  হাই স্কুলদের সঙ্গে প্রোগ্রাম
                              ছাত্রছাত্রী

মাদ্রাসার ফেসবুক পেজ

যোগাযোগ করুন এবং আপনার সন্তান কে ভর্তি করুন।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মৃত্যু ও বিয়েতে কি অদ্ভুত মিল

মৃত্যু ও বিয়েতে কি অদ্ভুত মিল তোমারপালকি উঠলো ,আমার খাটিয়া উঠলো। ফুল তোমার উপরও ঝরলো,ফুল আমার উপরও ঝরলো। তফাৎ শুধু এই ট্কুই ছিল। তুমি সেজে গেলে,আমাকে সাজিয়ে নিয়ে গেলো। তুমি নিজের ঘরে চললে আমিও নিজের ঘরেই চললাম। তফাৎ শুধুই এই টুকুই ছিল তুমি নিজে উঠে গেলে, আমাকে উঠিয়ে নিয়ে গেল। মাহফিল ওখানেও ছিল লোকজন এখনেও ছিল। তফাৎ এই টুকুই ছিল ওখানে সবাই হাসছিল এখানে সবাই কাদঁছে। কাজী ওখানেও ছিল মৌলভী এখানেও ছিল। দুটো আয়াত তোমার জন্যে পড়লো দুটো আয়াত আমার জন্যেও পড়লো তোমার বিয়ে পড়ালো আমার জানাজা পড়ালো  তফাৎ শুধু এই টুকুই ছিল তোমাকে করলো আপন আমাকে করলো দাফন। সংগ্রহে - মোঃ তৈয়েবুর রহমান 

আবু বকর আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নানান বিষয়ে দ্বিমত ও তার সমাধান

আবু বকর আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নানান বিষয়ে দ্বিমত করতেন, তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো, এমনকি চরম পর্যায়ের রাগারাগিও।  ব্যক্তিগত মতামতের বেলায় তারা দুজন খুব কম সময়ই একমত হতেন। তাঁদের কাছে কোনো পরামর্শ চাওয়া হলে একজন বলতেন, এই দিকে যান, তো আরেকজন বলতেন, না ঐদিকে যান।  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদর যুদ্ধের পর যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে সাহাবীদের কাছে জানতে চান।  আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মত দিলেনঃ "ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা তো আপনারই লোক, আপনারই পরিবার। তাদেরকে জীবিত রাখুন এবং সুযোগ দিন। হয়তোবা আল্লাহ তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার তাওফিক দেবেন।" উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মত দিলেনঃ "ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরাই তো আপনাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে, এরাই তো আপনাকে অবিশ্বাস করছে। (এখন তাদেরকে কিসের ক্ষমা) সুতরাং, আপনি তাদের শিরচ্ছেদ করুন।" দুজন সিনিয়র সাহাবী দুই ধরণের মত দিচ্ছেন। একজন বলছেন ক্ষমা করার কথা, তো আরেকজন বলছেন শাস্তি দেবার কথা।  কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "আল্লাহ কারো হৃদয়কে এতোটা কোমল বানি...