ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এঁর বৈবাহিক জীবন(আমাদের জন্য শিক্ষনীয় একটি ঘটনা)
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের যখন বিয়ে করতে মনস্থির করেছিলেন তখন তিনি তার চাচিকে বললেন, ওই শায়েখ এর বাড়িতে দুই জন বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে, আপনি তাদের দেখে আসুন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়া সম্পর্কে আমাকে জানান। ইমাম হাম্বল এর চাচি ওই মেয়ে দুটিকে দেখে আসার পর তাদের বর্ণনা দিতে শুরু করলেন। ওই দুই মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়েটির প্রশংসা বেশি করতে লাগলেন। ছোট মেয়েদের রূপের, চুলের ও বর্ণের প্রশংসা করতে লাগলেন। বড় মেয়েটির ব্যাপারে তিনি তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বর্ণনা দিতে লাগলেন যে বড় মেয়েটি শ্যাম বর্ণ, অবিন্যস্ত চুল এবং একটি চোখের ত্রুটির কথা উল্লেখ করলেন। তখন ইমাম হাম্বল রহঃ সেই চাচিকে জিজ্ঞাসা করলেন যে সেই দুজন মেয়েদের মধ্যে কোন মেয়েটি পরহেজগার এবং তাকওয়া পন্থী, তখন সেই চাচি টি বললেন ছোট মেয়েটির তুলনায় বড় মেয়েটি বেশি পরহেজগার। এ কথাটি শোনার পর ইমাম হাম্বল রাহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন 'আমি বড় মেয়েটিকেই বিয়ে করবো।' বিবাহের ত্রিশ বছর পর তাঁর স্ত্রী ইন্তেকাল করলেন। দাফনের সময় ইমাম হাম্বল বললেন 'ইয়া উম্মে আবদুল্লাহ! তোমার কবর শান্তিময় হোক।' আমাদের ৩০ বছরের বৈবাহিক জীবনে একবারও ঝগড়া-বিবাদ হয়নি। এ কথাটি শোনার পর তাঁর এক ছাত্র অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, ইয়া শায়েখ এটা কিভাবে সম্ভব? তখন ইমাম হাম্বল রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন যে 'আমি যখন রাগান্বিত হতাম তখন তিনি চুপ করে থাকতে এবং তিনি যখন রাগান্বিত হতেন তখন আমি চুপ করে থাকতাম'এই কারণে আমাদের মধ্যে কখনো ঝগড়া বিবাদ হয়নি।
(আল ইলমু ওয়াল উলামা : ৩৩৬)
পরিশেষে আমি বলতে চাই পাঠকগণের কাছে যে আমরা যদি সেই সব মহান মনীষীদের অনুসরণ করে চলতে পারি তাহলে আমাদের সামাজিক বৈবাহিক জীবন সুখময় হবে। এই ঘটনা থেকে একটা শিক্ষা পাওয়া যায় যেটি হলো দুইজনের ঝগড়ায় মধ্যে যেকোনো একজন চুপ থেকে ঝগড়া বিবাদ এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
সংগ্রহে - মোঃ তৈয়েবুর রহমান
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন