সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বুখারী শরীফ এর রচিয়তা ইমাম বুখারী রহঃ এর জীবনী।


বুখারী শরীফ এর রচিয়তা ইমাম বুখারী রহঃ এর জীবনী।

হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যিনি শত শত মাইল পদব্রজে গমন করেছিলেন। নির্ভুল হাদিস সমূহকে যাচাই করে গ্রন্থাকারে একত্র পড়ার মতো অসাধ্য কাজ সাধন করেছিলেন। হাদীস শাস্ত্রের তার পাণ্ডিত্য ও সাধনার কারণে হাদীস শাস্ত্রের তিনি 'বিশ্ব সম্রাট'উপাধিতে ভূষিত হন। ইমাম বুখারীর ডাকনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ ও প্রকৃত নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুগীরা। বর্তমান উজবেকিস্তানের বুখারা নামক শহরে ১৯৪ হিজরীর ১৩ শাওয়াল মোতাবেক ৮১০ খ্রিস্টাব্দে শুক্রবার জুমার নামাজের পর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ইসমাইল তিনি ও হাদীস শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন। ইমাম বুখারীর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন পারস্যের অধিবাসী এবং অগ্নিপূজক। পূর্ব পুরুষদের মধ্যে মুরগিরায় প্রথম ইসলাম কবুল করেন ও উজবেকিস্তানের বুখারা নামক শহরে এসে বসবাস করেন। ছেলেবেলায় ইমাম বুখারী অন্ধ হয়ে যায় সে কারণেই তাঁর মা সন্তানের জন্য চিন্তিত থাকতেন। একদিন তাঁর মা আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে ঘুমিয়ে পড়েন এবং স্বপ্নে হযরত ইব্রাহিম আঃ কে দেখেন সেখানে ইব্রাহিম আঃ বলছেন হে পুণ্যবতী মহিলা 'তোমার কান্নাকাটি দরুন আল্লাহ তোমার সন্তানের চোখ ভালো করে দিয়েছেন।' ঘুম ভাঙার পর তিনি দেখেন ইমাম বুখারীর অন্ধত্ব দূর হয়ে গেছে। ছেলেবেলা থেকেই ইমাম বুখারীর স্মরণশক্তি ছিল অতি অসাধারণ। ১০ বছর বয়স পর্যন্ত পোখারা নিকটস্থ মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি হাদিস শিক্ষার জন্য মক্কা, মদিনা, মিশার, সিরিয়া, কুফা, বাগদাদ ও নিশাপুর ইত্যাদি স্থানে হাদিসের ঘুরে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি ১০৮০ জন সাহেবের নিকট হতে হাদীস সংগ্রহ করে সেই হাদীসের সনদ ও মতন সহ মুখস্ত করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি হাদিসের জগৎ বিখ্যাত কিতাব 'বুখারী শরীফ'রচনা করেন। বুখারী শরীফের আসল নাম 'আল জামেউছ সহীহুল মুসনাদ'সাধারণত সকলে এই কিতাবটি কে সহীহ বুখারী বা বুখারী শরীফ বলে। তিনি নিজেই লিখেছেন"আমি এই কিতাবের প্রতিটি হাদিস এবং পরিচ্ছদ লেখার পূর্বে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছে এবং দোয়া করেছি যে-হে আল্লাহ, তুমি মহা জ্ঞানী আর আমি মূর্খ। আমার হৃদয়ে জ্ঞানের আলো জ্বেলে দাও। আমি যেন হাদীস লিপিবদ্ধ করতে পারি।" এভাবে ১৬ বছর কঠোর পরিশ্রম করে তার মুখস্ত ৬ লক্ষেরও বেশি হাদিস হতে বাছাই করে তাকরার সহ ৭৩৯৩ টি এবং তাকরার বাদে ২৭৬৯ টি হাদিস এই কিতাবে স্থান দেন। এই কারণগুলোর জন্য পবিত্র কুরআনের পরে বুখারী শরীফ এই নির্ভুল গ্রন্থ হিসাবে বিবেচনা করা হয় সারাবিশ্বে এর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। শুধুমাত্র তার নিকট ৯০হাজারের অধিক লোক এই কিতাবের হাদীসসমূহ শিক্ষা লাভ করেছেন। আজ মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি জায়গায় এই বুখারী শরীফের হাদিস শিক্ষা দেওয়া হয়। ইমাম বুখারী রহ ৫৫ বছর বয়সে নিশাপুরে ‌ছিলেন এবং সেখানে হাদিস শিক্ষা দান করতেন। থানার নাম সমগ্র মুসলিম জাহানের ছড়িয়ে পড়ার ফলে নিশাপুর একশ্রেণীর মানুষ ঈর্ষান্বিত হয়। যার ফলে তিনি নিশাপুর ত্যাগ করে মাতৃভূমি বোখারায় চলে আসেন এবং মানুষজনকে হাদিস শিক্ষা দানের ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি তার মাতৃভূমি বোখারায় স্বজাতি কর্তৃক নিপীড়িত ও নির্যাতিত হন। নিজ বংশের লোকেরা তাকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়নি। তিনি বুখারা শহর ছেড়ে বাই কান্দ করে সমরকন্দ এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি জানতে পারলেন সমরকন্দ এর আদিবাসী বিপদের আশঙ্কায় সেখানে আশ্রয় দিতে রাজি ছিল না। এই সংবাদ শোনার পর তিনি অত্যন্ত দুঃখিত হন এবং তাহাজ্জুদ নামাজের পর এই বলে দোয়া করলেন যে"হে আল্লাহ, বিশাল পৃথিবী আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে। তুমি আমাকে তোমার দরবারে উঠিয়ে নাও।"আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করলেন ও কয়েকদিনের মধ্যেই ঈদুল ফিতরের রজনীতে ২৫৭ হিজরী মোতাবেক ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে চলে যান।

সংগ্রহে - মোঃ তৈয়েবুর রহমান 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Satulia Islamia Senior Madrasah (সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা) আদি ও বর্তমান

শিক্ষা প্রসারে সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে অন্যতম সেরা সিনিয়ার মাদ্রাসা। প্রথমে আমরা জেনে নেব সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। ১৯৪৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অবিভক্ত ভাঙ্গড় থানার ও অধুনা কাশিপুর থানার ভগবানপুর অঞ্চলে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সাতুলিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠালগ্নে একটি বৈঠকখানায় পড়াশোনা শুরু হয় শুরু হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এক বিশাল বিস্তৃত অট্টালিকার আকার ধারণ করেছে। সাতুলিয়া পার্শ্ববর্তী গাংআইট গ্রামে পাকাপোল জুনিয়ার হাই স্কুলে পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) এর নোয়াখালীর বাসিন্দা জালাল উদ্দিন সাহেব শিক্ষকতা করতেন। পাকাপোল জুনিয়ার হাই স্কুলের কাছে ভগবানপুর জুনিয়র হাই স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাওলানা জালাল উদ্দিন সাহেব পিঠাপুকুরের রওশান আলি সাহেব, সাতুলিয়ার মৌলভী মাওলা বক্স সাহেব, গুছুড়িয়ার লাল মিয়া সাহেব প্রমুখের নিকট এলাকার মুসলিম বসতির কথা স্মরণ করিয়ে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন এবং সকলেই তার পরামর্শ সদরে গ্রহণ করেন। বিলম্ব না করে কিছুদিনের মধ্যেই...

মৃত্যু ও বিয়েতে কি অদ্ভুত মিল

মৃত্যু ও বিয়েতে কি অদ্ভুত মিল তোমারপালকি উঠলো ,আমার খাটিয়া উঠলো। ফুল তোমার উপরও ঝরলো,ফুল আমার উপরও ঝরলো। তফাৎ শুধু এই ট্কুই ছিল। তুমি সেজে গেলে,আমাকে সাজিয়ে নিয়ে গেলো। তুমি নিজের ঘরে চললে আমিও নিজের ঘরেই চললাম। তফাৎ শুধুই এই টুকুই ছিল তুমি নিজে উঠে গেলে, আমাকে উঠিয়ে নিয়ে গেল। মাহফিল ওখানেও ছিল লোকজন এখনেও ছিল। তফাৎ এই টুকুই ছিল ওখানে সবাই হাসছিল এখানে সবাই কাদঁছে। কাজী ওখানেও ছিল মৌলভী এখানেও ছিল। দুটো আয়াত তোমার জন্যে পড়লো দুটো আয়াত আমার জন্যেও পড়লো তোমার বিয়ে পড়ালো আমার জানাজা পড়ালো  তফাৎ শুধু এই টুকুই ছিল তোমাকে করলো আপন আমাকে করলো দাফন। সংগ্রহে - মোঃ তৈয়েবুর রহমান 

আবু বকর আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নানান বিষয়ে দ্বিমত ও তার সমাধান

আবু বকর আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নানান বিষয়ে দ্বিমত করতেন, তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো, এমনকি চরম পর্যায়ের রাগারাগিও।  ব্যক্তিগত মতামতের বেলায় তারা দুজন খুব কম সময়ই একমত হতেন। তাঁদের কাছে কোনো পরামর্শ চাওয়া হলে একজন বলতেন, এই দিকে যান, তো আরেকজন বলতেন, না ঐদিকে যান।  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদর যুদ্ধের পর যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে সাহাবীদের কাছে জানতে চান।  আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মত দিলেনঃ "ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা তো আপনারই লোক, আপনারই পরিবার। তাদেরকে জীবিত রাখুন এবং সুযোগ দিন। হয়তোবা আল্লাহ তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার তাওফিক দেবেন।" উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মত দিলেনঃ "ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরাই তো আপনাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে, এরাই তো আপনাকে অবিশ্বাস করছে। (এখন তাদেরকে কিসের ক্ষমা) সুতরাং, আপনি তাদের শিরচ্ছেদ করুন।" দুজন সিনিয়র সাহাবী দুই ধরণের মত দিচ্ছেন। একজন বলছেন ক্ষমা করার কথা, তো আরেকজন বলছেন শাস্তি দেবার কথা।  কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "আল্লাহ কারো হৃদয়কে এতোটা কোমল বানি...